বেহাল ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক: চলতি বছরে ৩০ জনের মৃত্যু
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৬-১০-২০২৬ ০৩:৪১:৫৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৬-১০-২০২৬ ০৩:৪১:৫৮ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যানবাহনের চাপ দুই থেকে তিন গুণ বেড়েছে। তবে সেই তুলনায় সড়কটির আধুনিকায়ন হয়নি। ফলে মাদারীপুরের ভাঙ্গা থেকে কালকিনির ভুরঘাটা পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার অংশের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। চলতি বছর এ মহাসড়কের মাদারীপুর অংশে ২০টি দুর্ঘটনায় অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন কয়েক শ মানুষ।
বছরের পর বছর বালু, পাথর ও সুরকি দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো মেরামত করা হলেও তা বেশি দিন টিকছে না। স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন চালক, যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) জানিয়েছে, ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। শিগগিরই পুরোদমে সংস্কারকাজ শুরু হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের কোথাও উঁচু, কোথাও নিচু। বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। এসব খানাখন্দের কারণে হেলেদুলে চলছে যানবাহন। এতে চালক ও যাত্রীদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারবার সংস্কারের সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় অল্প দিনেই সড়কে আবার গর্ত তৈরি হয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ৩০ হাজার যানবাহন চলাচল করে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুই থেকে আড়াই লাখ মানুষ প্রতিদিন এ সড়ক ব্যবহার করেন। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে এ অঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এটি। মহাসড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। চলতি বছরে ২০টি দুর্ঘটনায় অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু এবং কয়েক শ মানুষের আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতিতে আতঙ্কে রয়েছেন যাত্রী, চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে, টেকেরহাট, মোস্তফাপুর, তাঁতিবাড়ি ও ভুরঘাটা এলাকায় আরসিসি পদ্ধতিতে সড়ক মেরামতের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া মোস্তফাপুর-পান্তাপাড়া হয়ে পাথুরিয়ারপাড় পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার অংশ টেকসইভাবে মেরামতের জন্য চলতি অর্থবছরে ৬৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।
সাকুরা পরিবহনের চালক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর অংশের বেহাল দশা। প্রতিমুহূর্তেই আতঙ্কে থাকি। ধীরগতিতে গাড়ি চালালে যাত্রীরা বিরক্ত হন। আর গতি বাড়ালে দুর্ঘটনার ভয় থাকে। আমরা চালকেরা আছি মহাবিপদে।’
বিএম পরিবহনের সুপারভাইজার সৈয়দ বাবু বলেন, ‘প্রতিবছরই এই সড়ক মেরামত করা হয়। কিন্তু এক বৃষ্টিতেই আবার খানাখন্দ তৈরি হয়। কবে আমরা এ অবস্থা থেকে স্থায়ী মুক্তি পাব, সেটি জানা নেই।’
বরিশাল থেকে ঢাকাগামী যাত্রী কবিতা আক্তার বলেন, ‘সড়কের যে অবস্থা, তাতে সুস্থ মানুষও যাতায়াতের সময় অসুস্থ হয়ে যায়। একটু পরপর গর্ত আর খানাখন্দ। এটি দেখার যেন কেউই নেই।’
মাদারীপুর সদর উপজেলার কুলপদ্বী থেকে ঢাকায় যাতায়াত করেন রিপন মিয়া। তিনি বলেন, ‘সড়ক দিয়ে যাতায়াতের সময় দেখি, প্রতিনিয়ত মেরামত বা সংস্কারের কাজ চলছে। কিন্তু সড়কে টেকসই উন্নয়ন হয় না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সঠিকভাবে কাজ আদায় করা গেলে সড়কের খানাখন্দ কমে যাবে।’
মাদারীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খ ম নকিবুল বারি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে নিজস্ব অর্থায়নে ইট, পাথর, সুরকি ও বালু দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো মেরামত করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের কাজ শেষ হয়েছে। শিগগিরই সড়কটিতে পুরোদমে সংস্কারকাজ শুরু হবে। এতে মানুষের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করছেন তারা।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স